বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার নিয়ে কী ভাবছে দেশীয় দর্শকরা?

মিজানুর রহমান নামের একজন পাঠক ফোন করেছেন। ফোন করেই তিনি দুই মিনিট সময় চাইলেন, যেন এই সময়টায় তার কথা সোনা হয়। তিনি বললেন, ‘জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো যে বন্ধ হয়েছে এটা সত্য কি না, তাঁকে হ্যাঁ বলার পরে তিনি জানালেন তার বাসায় জি বাংলা দেখা যাচ্ছে। পরে জানালেন এটা বন্ধ হলে ভালো, তবে আমার মতামত হলো- বিদেশি সব চ্যানেল বন্ধ করা উচিৎ নয়, আমি ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, ডিস্কোভারি চ্যানেল দেখি। এছাড়াও স্পোর্টস চ্যানেল দেখতেই হয়। এসব বন্ধ করা উচিৎ।’

ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন,২০০৬’ এর উপধারা-১৯(১৩) এর বিধান অনুযায়ী,বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনও চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ।

এই আইনের বাস্তবায়নের জন্য গত শনিবার তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় বসেছিলেন দেশের বেসরকারি টেলিভিশনের কর্তারা। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সংকটে বেসরকারি টেলিভিশন’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র। গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এই আইন বাস্তবায়নের পক্ষে কথা বলেন।

সেখানে তথ্যমন্ত্রী কেবল অপারেটরদের উদ্দেশে বলেন, ডাউন লিংক করে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধু এ–সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে মানা হলে বছরে দেশে ৫০০ কোটি টাকা বাড়বে। তিনি টেলিভিশনে বিদ্যমান সমস্যার কথা ইঙ্গিত করে বলেন, ‘টিভিশিল্পকে সুরক্ষা দিতে আসুন সবাই একযোগে কাজ করি।’ এরপর ক্যাবল অপারেটরদের সংগঠনকে এই নির্দেশ পালন করতে বলা হয় তথমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

প্রথমিকভাবে জি নেটওয়ার্কের সকল চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে বাকি বিদেশি চ্যানেলগুলোও। এসব নিয়ে গত দুইদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়াও কম উত্তাল নয়। চলছে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে মত-অভিমত।

জান্নাতুল মনি নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘অনেকেই বলছে এটি ভালও সিদ্ধান্ত। আবার অনেকের মত এটা মোটেও ঠিক নয়। আমার প্রশ্ন, বিদেশি চ্যানেল শুধু জি বাংলা নয় কিন্তু। আমাদের ডিশ লাইনে শ’ খানেকের কাছাকাছি কিংবা ৪০ এর বেশি বিদেশি চ্যানেল আছে। বন্ধ করবে বিদেশি চ্যানেল তাহলে শুধু কেন জি বাংলা? সবগুলোই করুক না! এরপর এসব বিনোদনই উঠে যাবে। বাংলাদেশের জনগণ তখন কী করে সেটাই দেখার পালা। মূলত আমি মনে করি দেশি চ্যানেলই এর দায়বদ্ধ। কারণ মিষ্টি বেশি না হলে মাছি আসবে না। দেশি চ্যানেল নিজেরাই কিছু করে দেখাক। দেখবেন গ্রাহক এমনিতেই এসব বিদেশি চ্যানেল দেখা বন্ধ করে দিবে।’

অনেকেই সকল বিদেশি চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চিন্তিত। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল জি নেটওয়ার্কের জি বাংলা চ্যানেল। ওই চ্যানেলের এক গানের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি তরুণ নোবেল ভালো পারফর্ম করছিলেন, যার কারণে অনেকেই চ্যানেলটির দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন।

বাংলাদেশি দর্শকেরা ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ভারতীয় টেলিভিশন জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো দেখতে পাচ্ছেন। আজ বুধবার দুপুরের পর থেকে চ্যানেলগুলো দেখা যাচ্ছে।

আরও খবর