দেশটিভির ধারাবাহিক দুলাভাই জিন্দাবাদ

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে ধারাবাহিক নাটক দুলাভাই জিন্দাবাদ। শাহীন সরকারের গল্প ভাবনা ও পরিচালনায় নাট্যরূপ দিয়েছেন মানস পাল।

নাটকের গল্পে দেখা যায়, গ্রামের নাম মনোহরপুর। এই গ্রামের বেশীরভাগ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে বিদেশী টাকায়। তাই যুবকদের পড়াশুনার প্রতি তেমন কোন আগ্রহ নেই। তাদের সবার টার্গেট বয়স হলেই বিদেশে যাওয়া। পড়াশুনা করে তাই লাভ কি? বিদেশ যাবার আগে সবাই ঘোরা ফেরা করে বেড়ায়, আর চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে তাদের দিন কাটায়। হুমায়ুন সওদাগর এলাকার একজন সৎ পাট ব্যাবসী। সোনালী আঁশের গৌরবের দিনগুলির কথা গর্ব ভরে বলে বেড়ায় সে।

তার কথা হলো পাটেই হলো আমাদের অর্থনীতির প্রধান শক্তি। গার্মেন্স-টার্মেন্স এসব কিছুই না। সাময়িক জুয়া খেলা। তার সাত মেয়ে। পুত্র আশায় একে একে সাত মেয়ের পর স্ত্রী হাসনা হেনা স্বল্প রোগ ভোগে মারা যাওয়ায় সংসার আর বড় হতে পারেনি। ফুলের নামেই হাসনা হেনা তার মেয়েদের নাম রেখে গেছেন। বড় মেয়ের নাম শেফালি, মেজ মেয়ের নাম বকুল, এরপর বয়সের ক্রমানুসারে বেলী, জুঁই, জবা, শিউলি ও চাপা। বড় মেয়ে শেফালির বিয়ে দিতে হুমায়ূনকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।

বিয়ের সময় শর্ত ছিল ছেলেকে অবশ্যই ঘরজামাই থাকতে হবে। বর্তমান জামানার ছেলেরা ঘরজামাই থাকতে একেবারেই নারাজ তাই অনেক কষ্টে পাশের গ্রামের কুদ্দুসকেই তাকে বেছে নিতে হয়েছে। কুদ্দুস খুব রসিক এবং প্রাণ খোলা মানুষ। সারাক্ষণ হই-হুল্লোড়ের সহিত থাকতে পছন্দ করে সে। তার প্রধান কাজ হল শ্বশুরের ধন-সম্পদের তদারকি করা এবং শালীদের দিকে খেয়াল রাখা যেন তারা গোল্লায় না যায়। শেফালি একটু মুখরা টাইপের। সামান্য কারণেই চিৎকার চেচামেচি করে বাড়ি মাথায় তোলে। এই বিষয়টা আবার কুদ্দসের মোটেও পছন্দ নয় তবুও শ্বশুর বাড়িতে থাকতে হয় বলে মুখ বুজে সবকিছু সে মেনে নেয়। গ্রামের সকল ভাল কাজে কাউকে পাওয়া না গেলেও কুদ্দুসকে পাওয়া যায়। কালাম কুদ্দসের সহযোগিতা নেয়।

কুদ্দুসের শালীদের পাওয়ার আশায় এলাকার যুবক শ্রেণী কুদ্দুসের কথামত চলতে শুরু করে। গ্রামে গড়ে উঠে কৃষি, মৎস সহ আরো নানান রকমের খামার। কালাম স্বপ্ন দেখতে শুরু করে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো গ্রামের যুবকরা আর বিদেশে যেতে চাইবে না। উল্টো অন্যান্য গ্রামের লোকজন এই গ্রামে চাকরি করতে আসবে। কালামের সুনামের কারণে ছামাদের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। আর ভাইয়ের প্রশ্ন ফাঁসের মত বিষয়ে জড়িত থাকার দূর্ণামর রটায় ঝুনার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে।

বেলী এবার পাশ করে গেলেও জুঁই ফরিদের প্রশ্ন ফাঁসের উপর ভরসা করে নকল প্রশ্ন মুখস্ত করে গিয়ে পরীক্ষায় ভরাডুবি হয় তার। সে পাঁচ পাঁচটা সাবজেক্টে ফেল করে। নির্বাচনে প্রথমবার ছামাদের কাছে পরাজিত হয় ঝুনা চৌধুরী। কারো জীবনে সুখ নেমে আসে কারো জীবনে দুঃখ। কুদ্দুসর শালীদেরকে নিয়ে মজার মজার সব ঘটনার মধ্যে দিয়ে গল্প সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

নাটকে অভিনয় করেছেন আল মনসুর, ফজলুর রহমান বাবু, নিলয় আলমগীর, আ খ ম হাসান, আমিন আজাদ, তারিক স্বপন, শফিক খান দিলু, মুনিরা মিঠু, শশী, নিসা, অহনা, ঐশি, তন্দ্রা, শেলী আহসান, অধরা জাহান, ফিরোজ মিল্টন, ছোট শামিম, অহনা।

প্রচারিত হচ্ছে প্রতি মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে।

আরও খবর