না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার বেলা ৩টা ৪৮ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাগ্নে শাহরিয়ার মাহমুদ। বিনোদন বক্স ডট কমকে শাহরিয়ার মাহমুদ জানান, মমতাজউদদীন আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে রোববার মাগরিবের নামাজের পর গুলশান আজাদ মসজিদে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মিরপুরের বাসায়। আগামীকাল সোমবার সকালে দ্বিতীয় জানাজা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে।

শাহরিয়ার মাহমুদ আরও জানান, মমতাজউদদীন আহমদের ইচ্ছাতেই তার দাফন হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট গ্রামে।

প্রসঙ্গত, বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন মমতাজউদদীন আহমদ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত ১৬ মে থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। এর আগেও কয়েকবার লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো প্রখ্যাত এই নাট্যকারকে।

অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন এই নাট্যজন।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন মমতাজউদদীন আহমদ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন।

মমতাজউদদীন আহমদ রচিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নাট্যত্রয়ী’, ‘হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার’, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘জমিদার দর্পণ’, ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’। নিয়মিত চিত্রনাট্য রচনা ছাড়াও তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত’, ‘বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত’, ‘নীলদর্পণ’ (সম্পাদনা), ‘সিরাজউদ্দৌলা’ (সম্পাদনা)।

আরও খবর