মঙ্গলবার ‘ভাগের মানুষ’ এর ১৮০তম প্রদর্শনী

উপমহাদেশের মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক ঘটনা হলো ভারতবর্ষের বিভাজন। এ কেবলই মানচিত্রের বিভাজন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লক্ষ কোটি মানুষের ভাগ্য ভালবাসা সম্পদ সঞ্চয় ও প্রণয়ের নানা ঘটনা। উপমহাদেশ থেকে ইংরেজ যখন তার তাবু গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলো, তখনই তাদের মধ্যে এক বড়ো সংশয় ছিলো যে, এ মানুষেরা যদি আগামীতে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মিলিতভাবে বেড়ে ওঠে তাহলে পৃথিবীর নানা সাম্রাজ্যের শক্তি হুমকির সম্মুখীন হবে। এ সংশয় থেকে শীর্ষস্থানীয় হিন্দু, মুসলিম নেতাদের নিয়ে ভারত বিভাজনের চক্রান্ত করে ইংরেজ। সফল হয় তারা।

সাম্প্রদায়িক শক্তির উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যে কোন জনগোষ্ঠীর এই প্রথম ও একমাত্র বিভাজন। দেশ ভাগের পর দুই দেশের মধ্যে সংগঠিভাবেই শাসকগোষ্ঠী নির্মাণ করে এক কঠোর বৈরীভাব। দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক ভাবনা নিয়ে লালিত জনগণ তখন খাঁচায় বন্দী পাখির মতো কেবল দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে এমন সময় ভারতবর্ষের নানা পাগলা গারদে খবর পৌঁছে যে সেখানকার হিন্দু পাগল ও মুসলমান পাগলদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

 

অথচ হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান নামের দেশ দু’টি পাগলদের কাছে অপরিচিত। ঐ নামের দেশ অতীত ইতিহাসে বা ভূগোলে কোথাও চিহ্নিত নেই। লাহোর পাগলা গারদের পাগলরা সবাই একজোট হয়ে দুই সরকারের এহেন সিদ্ধান্তকে প্রতিবাদ ও প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমনি গল্পের নাটক ‘ভাগের মানুষ’।

দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর পর পুন:রায় মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে সময় নাট্যদলের ‘ভাগের মানুষ’ নাটকটি। আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটির ১৮০তম প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের লেখক সা’দত হাসান মান্টো’র ছোট গল্প ‘টোবাটেক সিং’ অবলম্বনে ‘ভাগের মানুষ’ নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন মান্নান হীরা এবং নির্দেশনা দিয়েছেন আলী যাকের। এটি ‘সময়’ এর ২৬তম প্রযোজনা। ১৯৯৭ সাল থেকে সময় দেশে ও দেশের বাইরে নাটকটির প্রদর্শন করে আসছে।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন, পাভেল ইসলাম, আকতারুজ্জামান, রেজাউর রহমান রিজন, ফখরুল ইসলাম মিঠু, মানসুরা রশীদ লাভলী, মাহমুদুল আলম, তোফায়েল সরকার, সুনিতা বড়ুয়া, মাকসুদুল বারী টিপু, আনোয়ার, মৌসুমী, সানী, মাসুম প্রমূখ।
আরও খবর